ইন্দিরা গান্ধীর রাজত্বকালে ১৯৭৫ সালে সারা দেশজুড়ে জরুরী অবস্থার কারণ

আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে তিন ধরনের জরুরি অবস্থার ক্ষমতা থাকে। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী তা  হলো (ক) ৩৫২ নং ধারা অনুযায়ী জাতীয় জরুরি অবস্থা। (খ) ৩৫৬  নং ধারা অনুযায়ী রাজ্য জরুরি অবস্থা। (গ) ৩৬০ নং ধারা অনুযায়ী আর্থিক জরুরি অবস্থা। এরমধ্যে ৩৫২ নং ধারা অনুযায়ী জাতীয় জরুরি অবস্থা হলে রাজ্য জরুরি অবস্থা (৩৫৬) ও আর্থিক জরুরি অবস্থা (৩৬০) নং ধারা উভয় কার্যকর হয়। জাতীয় জরুরি অবস্থার দুটি শর্ত আছে। প্রথমত, আক্রমণ হলে দ্বিতীয়ত, বড় ধরনের বিদ্রোহ হইলে।এখনো পর্যন্ত জাতীয় জরুরি অবস্থা ভারতবর্ষে তিনবার হয়েছিল। ১৯৬২ সালে অক্টোবর মাসে ভারত-চীন যুদ্ধের সময়। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে কেন জাতীয় জরুরি অবস্থা হয়েছিল চলুন জেনে নেই।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ ১৯৭৫ সালে জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধানের ধারা ৩৫২ নং অনুযায়ী জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। যা ২১ মার্চ ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকে। পূর্ববর্তী সময়ে ১৯৭১ সালে নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী ও তার বিপক্ষে ছিলেন রাজনারায়ন (সমাজবাদী পার্টি)। ইন্দ্রাগান্ধির নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন কিন্তু রাজনারায়ন আদালতে অভিযোগ করেন যে,নির্বাচনে গরমিল হয়েছিল এবং অসৎ পথে নির্বাচিত হয়েছেন। এর  বিরুদ্ধে এলাহাবাদ হাইকোর্টে নির্বাচনী জালিয়াতি এবং নির্বাচনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মামলা দায়ের করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীকেও হাইকোর্টে জেরা করা হয়েছিল । ১২ জুন ১৯৭৫-এ, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহনলাল সিনহা প্রধানমন্ত্রীকে তার নির্বাচনী প্রচারে সরকারি যন্ত্রপাতির অপব্যবহারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তার নির্বাচন বাতিল এবং অকার্যকর ঘোষণা করে এবং লোকসভায় তার আসন থেকে তাকে বাদ দেয়। আদালত তাকে অতিরিক্ত ছয় বছরের জন্য কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও নিষেধ করে দ্যায়। ভোটারদের ঘুষ দেওয়া এবং নির্বাচনী অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগগুলি বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে সরকারী যন্ত্রপাতির অপব্যবহারের জন্য দায়ী করা হয়েছিল এবং একটি মঞ্চ তৈরি করতে রাজ্য পুলিশকে ব্যবহার করার মতো অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে তিনি তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আহমেদ এর কাছে ইন্দ্রাগান্ধি একটি প্রস্তাব পেশ করেন।অনেক নেতাকে জেলবন্দি করা হয় ও নানান বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেকেই এটাকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। এই সময়কে কালো অধ্যায় হিসেবে ধরা হয়। ২৫ শে জুন ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রনয়ণ করেন এবং ২১শে মার্চ ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দুই বছর এই জাতীয় জরুরি অবস্থা বহাল রাখেন।