Interpol এর ক্ষমতা ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে ধারণা

আমরা প্রায়ই Interpol এর সম্পর্কে বিভিন্ন কথা পত্রিকা ,টি ভি , ছিনেমা ,ইউটিউব,ফেসবুক এর মতো অনেক জায়গায় দেখতে পাই।এখন আমরা Interpol সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিষয়টি জানব।

Interpol সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য়:

সাধারণত দেখে থাকি যে পুলিশ অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদের আটক করে। ইন্টারপোল এমন কোন সংস্থা না। ইন্টারপোলের কোন পুলিশই ক্ষমতা নেই বা এদের কোন এজেন্টও নেই যারা অপরাধীদের আটক করবে। প্রশ্নটা হলো ইন্টারপোল আসলে কি? কি করে? কিভাবে গঠিত হয়?ইন্টারপোল এর ক্ষমতা  কতটা ?

Interpol এর সম্পূর্ণ নাম :

  • ইন্টারপোল এর সম্পূর্ণ নাম বলতে পারি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অরগানাইজেশন ( International Criminal Police Organization )। আসলে ইন্টারপোল শব্দটি এই সংস্থাটির একটি পৃথক নাম যেটির ধারণা ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ বা আন্তর্জাতিক পুলিশ থেকে নেওয়া

Interpol  গঠন  এবং কাজ :

  • মূলত কোন অপরাধি যদি এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালায়ন করে তখন এর কাজ হল এই দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন। রাজনৈতিক সামরিক এবং জাতিগত দ্বন্দ্বের উপর কোন হস্তক্ষেপ করে না।
  • ১৯১৪ সালের দিকে মোরাগতে একটি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কনফারেন্সে হয় এবং সেখানে এই ইন্টারপোল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৯২৩ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। তখন সেটির নাম ছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ কমিশন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এর কার্যকারিতা এবং কিছু সময়ের জন্য থেমে যায়। শিশুদের সালের দিকে নাম পরিবর্তন করে নতুন করে যাত্রা শুরু করে নতুন নাম হয় আই সি পি ও অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন নামে।

Interpol এর সদস্য সংখ্য়া :

  • ইন্টারপোল এর মোট সদস্য দেশ সংখ্যা 195। প্রত্যেকটি দেশে একটি করে NCB অর্থাৎ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল বিউরো(National Central Burea)।
Interpol এর ক্ষমতা ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে ধারণা
Interpol এর ক্ষমতা ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে ধারণা

Interpol এর কাজ এবং সুবিধা :

  • সন্ত্রাসবাদ মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিভিন্ন ধরনের পাচার যেমন- মানব পাচার অর্থপাচার, চোরাচালান, কপিরাইট অমান্য করা, সাইবার ক্রাইম, দুর্নীতি, জালিয়াতি এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তাদের ধরতে সাহায্য করে।
  • ভারতবর্ষের আসামি যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করে তখন তখন ভারত সরকার ভারতবর্ষের NCB সঙ্গে অর্থাৎ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো সঙ্গে যোগাযোগ করবে। ভারতবর্ষের এমসিবি বাংলাদেশের এমসিকিউ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করতে বলবে বা গ্রেফতারি জারি করতে বলবে।তখন বাংলাদেশের ইনভেস্ট্রিকেটিং টিম বাংলাদেশের ওই ব্যক্তিকে খোঁজার কাজ করবে এবং এরেস্ট করবে।

Interpol এর বিভাগ অনুযায়ী কাজ কর্ম :

ইন্টারপোল মূলত অপরাধীদের বিভাগ অনুযায়ী আট ধরনের নোটিশ দিয়ে থাকে। এই আটটির মধ্যে সাতটিকে সাতটি ভিন্ন রকমের রং দিয়ে বোঝানো হয় এবং একটিকে আলাদা করে বোঝানো হয় যা হলো স্পেশাল নোটিস। এগুলি হল –

  • কাউকে এরেস্ট করতে রেড নোটিশ দেওয়া হয়।
  • কাউকে খুজে বের করতে ইন্টারপোল ইয়েলো নোটিশ দেয়।
  • মৃত ব্যক্তি পড়ে থাকলে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য বের করার জন্য কালো নোটিশ জারি করে।
  • কোন আসামি খুঁজে বের করার জন্য তা সম্পর্কে তথ্য বের করতে কালো নোটিশ জারি করা হয়।
  • কোনো  ব্যক্তি অপরাধ বা হামলা করতে পারে এমন সম্ভাবনা থাকলে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে গ্রীন নোটিশ অর্থাৎ সবুজ নোটিশ জারি করা হয়।
  •  কোন ব্যক্তির অপরাধ করার জন্য যে কৌশল ব্যবহার করে সেই কৌশল বোঝাতে পারপেল নোটিশ।
  • কমলা বা অরেঞ্জ নোটিশ হল কোন হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা।

*  *  স্পেশাল নোটিশ হলো যেটি দ্বারা ইন্টারপোলের সদস্যদের কোন ব্যক্তি বা বিষয় সম্পর্কে এটি জানানো হয় যে ওই ব্যক্তি বা বিষয়ে জাতিসংঘের অনুমোদন রয়েছে।

Interpol এর কিছু তথ্য:

  • ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট কে নিয়োগ করা হয় চার বছরের জন্য।
  • সাধারণ সচিবালয়ের মহাসচিব এর মেয়াদ হচ্ছে পাঁচ (5) বছর।
  • চারটি অফিসিয়াল ভাষা রয়েছে এগুলি হল ইংরেজি ,আরবী,  ফ্রান্স, স্প্যানিশ

Interpol এর হেড কোয়ার্টার ও সাধারণ সম্পাদক :

  • NTERPOL সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে ফ্রান্সের লিও তে অবস্থিত সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারি বা সাধারণ সচিবালয়।
  • সাধারণ সচিবালয় থেকে ইন্টারপোলের সমস্ত রকম কাজকর্ম এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা । যেটার প্রধান হিসেবে কাজ করেন একজন সেক্রেটারি জেনারেল বা মহাসচিব।
  •  জেনারেল সেক্রেটারি নিয়োগ দেয় ইন্টারপোলের জেনারেল অ্যাসেম্বলি বা সাধারন পরিষদ।
  • এই সাধারণ পরিষদ গঠিত হয় প্রত্যেকটি দেশের একজন করে সদস্য নিয়ে।
  • এই সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে তেরো জনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় যাদের কাজ হচ্ছে সাধারণ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কাজ গুলি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখা।