Driving Licence Application

ভারতে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি কারণ এটি আইনত আপনাকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়। একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে, আপনাকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং যথাযথ পরিশ্রমের পরে লাইসেন্স পেতে হবে। আপনি যদি ভারতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমে স্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স (Learning Driving Licence) পেতে হবে।

আপনি আপনার সুবিধামত অনলাইন বা অফলাইনে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। এখানে, নীচের ধাপগুলি অনুসরণ করে আপনার বাড়িতে বসেই অনলাইনে লার্নার্স ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন তার বিশদ বিবরণ দেওয়া হল। মনে রাখবেন যে আপনি অনলাইনে লার্নার্স লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও, আপনাকে আপনার লাইসেন্স পেতে অফলাইনে প্রক্রিয়াটির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও, ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স হওয়া এবং ট্রাফিক নিয়ম ও প্রবিধান সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বয়স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য আপনার বৈধ নথিও থাকতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদনের যোগ্যতা:

পশ্চিমবঙ্গে, বাহন ই-পরিষেবা (Vahan e-Services) প্রোগ্রাম আপনাকে এখতিয়ারভিত্তিক RTO (আঞ্চলিক পরিবহন অফিস) এ সহজেই একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে সাহায্য করে। ইস্যু করা ড্রাইভিং লাইসেন্স আপনাকে ভারতের যে কোনো অংশে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী মোটর গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য আবেদন করার আগে নিম্নলিখিত যোগ্যতার মানদণ্ডগুলি মনে রাখা উচিত।

  • ১৬-১৮ বছরের মধ্যে বয়সী আবেদনকারীদের নন-গিয়ার (Non-geared) ক্যাটাগরিতে ৫০cc পর্যন্ত মোটর গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
  • ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নন-ট্রান্সপোর্ট ক্লাসে যেকোনো মোটর গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
  • ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা পরিবহন যান সহ সকল শ্রেণীর যানবাহনের জন্য আবেদন করতে এবং লাইসেন্স পাওয়ার অনুমতি পাবেন।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য যোগ্য হওয়ার জন্য, আপনি যদি প্রাসঙ্গিক বিভাগে পড়েন তবে আপনাকে লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে প্রথমে একটি লার্নার্স লাইসেন্স পেতে হবে। পরীক্ষাটি হবে লিখিত এবং মৌখিক অংশের সংমিশ্রণ, যার লক্ষ্য সড়ক নিরাপত্তা বিধি, প্রবিধান এবং লক্ষণ ও সংকেতের সাধারণ সচেতনতা সম্পর্কে আপনার দক্ষতা পরীক্ষা করা।

লারনার্স লাইসেন্স পাওয়ার পর, ধারক অস্থায়ী লাইসেন্স ধারণের এক মাস পরে যে কোনো সময় স্থায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই নথির বৈধতা ইস্যু হওয়ার তারিখ থেকে ৬মাস পর্যন্ত এবং এর পরে এটি পুনর্নবীকরণ (Renew) করা যাবে না।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের জন্য কি কি নথি (Document) দরকার হয়?

পশ্চিমবঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময় নিমক্ত নথিপত্র গুলো দরকার হবে –

  • স্ট্যান্ডার্ড ফর্ম্যাটে প্রয়োজনীয় আবেদনকারী ফর্ম, RTO-এর সামনের ডেস্কে পাওয়া যায়। পরিবহন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও এটি ডাউনলোড করা যাবে।
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • বয়স প্রমাণ নথি যেমন জন্ম শংসাপত্র, স্কুল ছাড়ার শংসাপত্র ইত্যাদি।
  • আইডি প্রুফ নথি যেমন ভোটার আইডি, আধার কার্ড।
  • ঠিকানার প্রমাণ হিসাবে সহায়ক নথি যেমন ইউটিলিটি বিল।
  • একজন প্রত্যয়িত ডাক্তার দ্বারা জারি করা মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট।

কিভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন?

উপরে উল্লিখিত সমস্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করার পরে নিচের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন –

প্রথম ধাপ: সরকারী সরকারী ওয়েবসাইট https://parivahan.gov.in/parivahan/ এ যান।

দ্বিতীয় ধাপ : এখন, ‘অনলাইন সার্ভিসেস (Online Services)‘-এ যান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রিলেটেড সার্ভিসে ক্লিক করুন।

তৃতীয় ধাপ: আপনি যে রাজ্যে থাকেন সেটি বেছে নিন।

চতুর্থ ধাপ: এখন, আপনাকে ‘লার্নার্স লাইসেন্স অ্যাপ্লিকেশন (Learner’s Licence Application)‘ বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

পঞ্চম ধাপ: এখানে তালিকাভুক্ত নির্দেশিকাগুলি সাবধানে পড়ুন এবং আপনার ব্যক্তিগত বিবরণ পূরণ করুন।

ষষ্ঠ ধাপ: আপনাকে আপনার মোবাইল নম্বর এবং আধার নম্বর দিতে বলা হবে।

সপ্তম ধাপ: লার্নার্স লাইসেন্সের আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় নথিগুলি আপলোড করুন।

অষ্টম ধাপ: পরীক্ষার জন্য তারিখ নির্বাচন করুন এবং অর্থপ্রদান করুন।

যদি আপনার রাজ্যের লার্নার্স লাইসেন্সের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইন হয়, তাহলে নথির জন্য আবেদন করার সময় আপনাকে আধার প্রমাণীকরণ (Aadhaar Authentication) বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। লার্নার্স লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার জন্য আপনাকে আরটিও (RTO) – তে যেতে হবে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরপ্রদেশে, আপনি আরটিওতে না গিয়েই লার্নার্স লাইসেন্স পেতে পারেন এবং অনলাইনে পরীক্ষা দিতে পারেন।