মানুষকে হুল ফোটানোর পর মৌমাছি মারা যায় কেন, জেনে নিন কারণ

আপনি লক্ষ্য করবেন বেশিরভাগ সময়েই মৌমাছি মানুষকে হুল ফোটানোর পর পরেই মারা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক মৌমাছির এই মৃত্যুর পিছনের আসল কারণ।

মানুষকে হুল ফোটানোর কারণে মৌমাছির অভ্যন্তরীণ দেহাঙ্গ পুরোপুরি ভেঙে যায়। মৌমাছি মানুষকে হুল ফোটানোর সাথে সাথেই এপিটক্সিন নামের একরকম বিষ মানুষের শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। কিন্তু সমস্যাটা তখন হয় যখন মৌমাছির হুল আমাদের গায়ের চামড়া মোটা হওয়ার কারণে ফেঁসে যায় এবং যখনই মৌমাছি নিজের দেহ কে আমাদের দেহ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করে তখনই সেটির অ্যাবডোমেন বিছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে এর ডাইজেস্টিভ ট্রাক্ট ও খুলে যায়। এর ফলস্বরূপ মৌমাছির বিষ হুল আমাদের দেহের সঙ্গে লেগে আটকে যায়। এই কারণে দেহের পাচক নালি দেহ থেকে বিছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে মৌমাছির নিশ্চিত মৃত্যু হয়। আসুন আমরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।

যখন একটি মৌমাছি দংশন করে, তার কিছুক্ষণ পরেই এর ভয়ঙ্কর মৃত্যু হয়। মৌমাছির হুল এমনভাবে গঠিত যে এটি একবার মানুষের ত্বকে খোঁচা দিলে, মৌমাছি এটিকে স্ব-অঙ্গবিচ্ছেদ না করে বের করতে পারে না। মৌমাছি যখন হুলটি বের করার চেষ্টা করে, তখন এটি তার তলপেট ফেটে যায়, এরপর মৌমাছি সেটিকে ছড়ানোর চেষ্টা করলে এর পরিবর্তে হজম উপাদান, পেশী, গ্রন্থি এবং একটি বিষের থলির বের করে দেয়। এর ফলস্বরূপ পেটের শেষে একটি ফাঁকা  গর্তের সৃষ্টি হয়।

ডেভিসের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির এরিক মুসেন বলেন, “মৌমাছির রক্ত ছাড়া, এটা একধরনের রক্তপাতের মত।”  মুসেন একজন মৌমাছি পালনকারী, মৌমাছি পালনকারীর জন্য একটি অভিনব শব্দ হল, “এটি নকল, পরিষ্কার পোকামাকড়ের রক্ত।”

মুসেন আরও বলেন মৌমাছির হুল হাইপোডার্মিক সূঁচের মতো ফাঁপা এবং বিন্দুযুক্ত। এটিতে দুই সারি ল্যানসেট, বা করাত-দাঁতযুক্ত ব্লেড রয়েছে। এই ব্লেডগুলি আকৃতিতে কাঁটাযুক্ত এবং একটি হার্পুনের মুখের মত দেখতে।

 A honeybee stinger magnified 650x, from Rose-Lynn Fisher's book, BEE. Image by Rose-Lynn Fisher
A honeybee stinger magnified 650x, from Rose-Lynn Fisher’s book, BEE. Image by Rose-Lynn Fisher (একটি মৌমাছির হুল, ৬৫০ গুণ জুম করার ফলে এরকম দেখতে লাগে)

জীববিজ্ঞানী এবং “বি টাইম: লেসনস ফ্রম দ্য হাইভ” এর লেখক মার্ক উইনস্টন বলেন, “মৌমাছির দংশনের সাথে সাথে, ব্লেডগুলি পর্যায়ক্রমে মানুষের মাংসে একত্রে কাঁচি দেয়,”  এটি দেখতে – এবং কাজ করে – একটি স্ক্রু অ্যাঙ্করের মতো, যার অর্থ একবার প্রবেশ করলে, হুলটি আর বের করতে পারে না। পেশীগুলি হুলটিকে একটি বিষের থলির সাথে সংযুক্ত করে, যেখান থেকে একটি কোষ-ধ্বংসকারী টক্সিন নির্গত হয়।

মৌমাছি থেকে নির্গত বিষের গন্ধ মৌচাকের জন্য একধরনের হুমকির ইঙ্গিত দেয় এবং অদ্ভুতভাবে, এই বিষের গন্ধ কলার মত। কিন্তু, শুধুমাত্র স্ত্রী মৌমাছিরই হুল ফোটাতে পারে, এরা শ্রমিক মৌমাছি নামেও পরিচিত।